ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট

প্রিয় পাঠক,আজকে আপনারা ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট,কিভাবে ডাউনলোড করা যায়,এবং ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় তা সম্পর্কে আলোচনা করবো। তাই মনোযোগ সহ ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।
ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট
বর্তমানে বিশ্বের জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইউটিউব। ইউটিউব এ বিশ্বের সকল নিউজ ঘরে বসেই মানুষ দেখতে পাচ্ছে। তাই এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার চলুন এই জনপ্রিয় মাধ্যম ইউটিউব সম্পর্কে নিচে আমরা বিস্তারিত জেনে নেই।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট

ভূমিকা 

বিশ্বের জনপ্রিয় মাধ্যম গুগল এর পরেই ইউটিউব এর স্থান। বর্তমানে ইউটিউব এত জনপ্রিয়তা লাভ করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বের সকল নিউজ মুভি গেমস থেকে শুরু করে সকল ধরনের এন্টারটেনমেন্ট ঘরে বসে যেখানে সেখানে খুব সহজেই ইউটিউব এ দেখতে পারেন। ইউটিউব শুধু বিনোদনের মাধ্যম তা কিন্তু নয়। বর্তমানে ইউটিউব এর মাধ্যমে যুবক - যুবতিসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ইনকাম করে থাকে।
যা অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। তো আমরা আজকে জানবো ইউটিউব সম্পর্কে ইউটিউব কি,এর মালিক,আবিষ্কারক,এবং কিভাবে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করা যায় তা সম্পর্কে বিস্তারিত ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট আর্টিকেলে আলোচনা করবো।

ইউটিউব এর মালিক কে

এই ইউটিউব সর্বপ্রথম তিনজন যুবক মিলে একটি ভিডিও স্কিমিং ওয়েবসাইট চালু করেছিলেন। যা বর্তমানে ইউটিউব নামে পরিচিত। ইউটিউবের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন জাভেদ করিম (বাংলাদেশী আমেরিকান নাগরিক),চাদ হারলি,এবং স্টিভ চেন। এই তিনজনই ছিলেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও স্কিমিং ইউটিউবের জনক।

তবে বর্তমানে ইউটিউব এর মালিক হচ্ছে গুগল। ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে গুগল ওয়েবসাইটটি ক্রয় করে নেন। এরপর থেকেই ইউটিউব ব্যবহারকারীরা নিজেদের তৈরি ভিডিও আপলোড,ভিডিও দেখা,ভিডিওতে রিপোর্ট করা,মন্তব্য করা,অন্য ব্যবহারকারীদের সাবস্ক্রাইব করা অনুমোদন পেয়েছিল।

ইউটিউব কত সালে আবিষ্কার হয়

প্রিয় পাঠক,আপনারা শুধু জানেন যে ইউটিউব সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। কিন্তু এই ইউটিউব আবিষ্কারের অনেক ইতিহাস রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানিনা। চলুন আজকে আমরা ইউটিউব আবিষ্কার সম্পর্কে জেনে নিবো। ইউটিউব এর মূল আবিষ্কারক ছিল তিনজন বন্ধু নাম ছিল জাভেদ করিম,চাদ হারলি এবং স্টিভ চেন। এই তিন বন্ধু মিলে ২০০৫ সালে অনলাইন এ একটি ভিডিও শেয়ার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ভিডিও শেয়ার করার জন্য একটা নেটওয়ার্ক সাইট খুজে পেল না।

যেখানে তারা এই ভিডিও গুলো আপলোড করবেন। পরবর্তীতে তারা নিজেরাই একটা ওয়েবসাইট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করার ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেললেন। ইউটিউব এর প্রথম ভিডিওর নাম হল Me at the zoo যা আপলোড করা হয়েছিল jawed নামক ইউটিউব চ্যানেলে। এভাবেই ২০০৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় ইউটিউব আবিষ্কার হয়।

ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট

বর্তমান বিশ্বে ইউটিউব এর নাম জানেনা বা শুনেন নি এমন ব্যক্তি খুব কমই আছে। তবে পুরনো দিনের মানুষ অথবা যারা স্মার্টফোন কম্পিউটার ব্যবহার করেন না তাদের হয়তো ইউটিউব সম্পর্কে ধারণা নাও থাকতে পারে। এখন চলুন ইউটিউব - কি ইউটিউব কি ধরনের সাইট তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।।ইউটিউব হচ্ছে মূলত একটি ভিডিও প্লাটফর্ম। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখতে পারেন শেয়ার করতে পারেন মন্তব্য করতে পারেন এবং আপলোড করতে পারেন।
এই ইউটিউবে আপনি নিজস্ব চ্যানেল খোলার মাধ্যমে তা করতে পারেন। ইউটিউব যার ইংরেজি (YouTube) হল সান ব্রুনো,ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক ভিডিও স্কিমিং ওয়েবসাইট। যা বর্তমানে গুগলের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। গুগল ২০০৬ সালে ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ক্রয় করেন। জনপ্রিয়তার দিক থেকে গুগলের পরের স্থানে ইউটিউব রয়েছে।

বর্তমানে আমরা দুই ধরনের সার্চ ইঞ্জিন পেয়ে থাকি তা হল গুগল সার্চ ইঞ্জিন এবং ইউটিউব সার্চ ইঞ্জিন। গুগল হল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন যার মাধ্যমে আমরা যে কোন বিষয় জানতে চাই এবং সমাধানও পেয়ে যাই। তারপরে রয়েছে ইউটিউব যার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন কনটেন্ট সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।

কোভিড - ১৯ মহামারী চলাকালীন অবস্থায় যখন বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ ঘরের মধ্যে বন্দি অবস্থায় ছিল তখন ইউটিউবের মতো মাধ্যম গুলোর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তথ্য মতে,একটা ডাটা ফার্ম অনুমান করেছিলেন যে ইউটিউব সমস্ত ইন্টারনেট ট্রাফিকের ১৫% এর জন্য দায়ী যা এটি প্রাক মহামারী স্তরের দ্বিগুণ।

ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার অ্যাপস

আমাদের অনেকেরই ব্যক্তিগত অথবা পেশাগত কারণে ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। আমরা যারা ইউটিউব ব্যবহার করি কম-বেশি সবাই জানি ইউটিউব থেকে চাইলেই সব ভিডিও সরাসরি ডাউনলোড করা যায় না। আবার ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করলেও তা সাধারণত ইউটিউবেই সংরক্ষিত থাকে যা অফলাইনে অর্থাৎ ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও দেখা যায়। কিন্তু আমরা তা ফোনের মেমোরিতে নিয়ে আসতে পারি না।

এর কারণ হলো মূলত ইউটিউব চায় আপনাকে তাদের প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ব্যয় করার। এভাবেই আমাদের মত যারা ইউটিউব ইউজার আছে তাদের দ্বারা মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা ইনকাম করে থাকে। আমরা যে কোন ভিডিও ডাউনলোড করার জন্য প্রথমত সেই ভিডিওর লিংক কপি করে ভিডিও ডাউনলোড করা অ্যাপস এ পেস্ট করলেই এবং ডাউনলোড অপশন এ ক্লিক করলেই আপনার ভিডিও ডাউনলোড হয়ে যাবে।

এছাড়াও আপনি ইউটিউব এর ভিডিও লিংক কপি করা ছাড়াও আপনি লিংক শেয়ার বাটনে ক্লিক করে ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন। ভিডিও ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে অবশ্যই আগে এই অ্যাপসগুলো ডাউনলোড করে নিতে হবে। এখন এই অ্যাপস গুলো কোথায় পাবেন প্রশ্ন জাগতে পারে। 

এই অ্যাপস গুলো পাবেন গুগল প্লে স্টোরে অথবা মাইক্রোসফট,গুগল ক্রোমো,ফেয়ার ফক্স বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। এবার চলুন ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার অ্যাপস গুলো কি কি তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
  • Vid Mate
  • SnapTube
  • Tube Mate
  • Video Downloader &Ace player
এছাড়াও অসংখ্য অ্যাপস আছে যার মাধ্যমে আপনারা ইউটিউব থেকে খুব সহজেই ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন। এবং সেই ভিডিওগুলো আপনার মেমোরি এবং ফোন মেমোরিতে রাখতে পারবেন।

বাংলাদেশে ইউটিউব কত সালে চালু হয়

আমাদের সকলের বিনোদনের এবং আয়ের অন্যতম মাধ্যম হলো ইউটিউব। বাংলাদেশও ইউটিউবের জনপ্রিয়তা অনেক। দিন দিন এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউটিউব এর তথ্য মতে,ইউটিউব কে যদি একটা দেশ হিসেবে গণ্য করা হয় তাহলে চীন এবং ভারতের পরেই ইউটিউবের স্থান। ইন্টারনেটের গতির স্পিড এর মান উন্নত হওয়ায় এবং স্মার্টফোনে সহজে ইন্টারনেটের ব্যবহার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কোটি কোটি মানুষ এখন নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বিচরণ করে থাকেন।

বাংলাদেশেও এর বাহিরে না। ইউটিউব এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতি,উন্নয়ন,সামাজিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি বিশ্ব দরবারে সমাদৃত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে বেকারদের আয়ের উৎস হিসেবে ইউটিউব বেশ জনপ্রিয়। তো আমরা আজকে জানবো বাংলাদেশে ইউটিউব কত সালে চালু হয়েছিল। বাংলাদেশে ইউটিউব প্রথম চালু হয়েছিল ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে।

ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়

বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ নিয়মিত ইউটিউব ভিডিও দেখেন। মিনিটে ইউটিউবে ৫০০ ঘন্টা ভিডিও স্টিম হয়। বর্তমানে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউটিউব এর মাধ্যমে ইনকাম করে থাকে। শুধু আমরা শুনি যে ইনকাম করা যায় কিভাবে করা যায় কোন উপায় করা যায় কি কি নিয়ম অনুসরণ করলে ইনকাম করা যায় তা কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা। ইউটিউব থেকে আয় করার কথা শুনতে খুব সহজ হলেও কিন্তু সহজ না।

আপনাকে ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটা সময় আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। শুধু যে চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড করলেই যে ইনকাম হবে এমন কিন্তু নয়। তার জন্য বিভিন্ন নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে তারপর ইনকাম করতে পারবেন। প্রথম ভেরিফাই ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। তারপর আপনার চ্যানেলের যদি ১০০০ সাবস্ক্রাইবারস হবে বা তার অধিক এবং সব ভিডিও মিলে ৪০০০ ঘন্টা ভিউ থাকতে হবে।

তখনই আপনি মনিটাইজেশন প্রক্রিয়াটি চালু করার জন্য এপ্লাই করবেন। এপ্লাই করার পর আপনার চ্যানেল টি এপ্রুভ হয়ে গেলে তখন থেকেই আপনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ইনকাম করতে পারবেন। চলুন আজকে আমরা জানবো ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়।
  • নিজের ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে
  • গুগল অ্যাড সেন্স এর মাধ্যমে
  • পেইড প্রমোশনের মাধ্যমে
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে
  • ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম
  • ইউটিউবে অনলাইন কোর্স বিক্রয় এর মাধ্যমে
  • নিজের প্রোডাক্ট সেলের মাধ্যমে
  • ইউটিউব চ্যানেল বিক্রির মাধ্যমে

উপসংহার

প্রিয় পাঠক,আমরা হয়তো অনেকেই ইউটিউব সম্পর্কে জানিনা বা জানতাম না। ইউটিউব বিশ্বের জনপ্রিয় ভিডিও স্কিমিং ওয়েবসাইট তা আমরা ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট আর্টিকেলটি পরে জেনেছি। এবং ইউটিউব শুধু বিনোদন বা বিভিন্ন নিউজ ভিডিও দেখার প্ল্যাটফর্ম নয়। এর পাশাপাশি আয়েরও উৎস হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বর্তমানে বাংলাদেশে ইউটিউব এর ব্যবহার দিন দিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তাই আমাদের সকলের উচিত হবে অহেতুক ইউটিউবে সময় নষ্ট না করে এই প্লাটফর্ম থেকে যেন আমরা কিছু শিখতে পারি । এবং আয়ের এর মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করতে পারি সেই জন্য ইউটিউব ব্যবহারে কমবেশি সবার ধারণা থাকা উচিত। তাই আপনাদের জন্য ইউটিউব সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়ার জন্য ইউটিউব কি - ইউটিউব কি ধরনের সাইট আর্টিকেলের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আশা করছি আপনারা সকলেই উপকৃত হয়েছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ড্রিমসসেফ আইটিির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url